শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাত থেকে পাওয়া জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত তোফিকুল ইসলাম চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে (৩০ ডিসেম্বর)। ২০০৬ সালের ২০ জুন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক তোফিকুল ইসলামের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজনরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজন করা হয় এক বিদায় সংবর্ধনার। ৩৭ বছর আগে তিনি যখন এনজিও কর্মী হিসেবে সেই এলাকায় গিয়ে দেখেন স্বাক্ষর করতে জানেন না কেউই। তাঁর উপলদ্ধি আসে এলাকায় শিক্ষার প্রয়োজন। তিনি চাকরি ছেড়ে সেখানে নেমে পড়েন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়। এরপর ১৯৮৯ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৭ বছর শিক্ষকতা করেছেন এই বিদ্যালয়ে। বিদায়কালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে তার কর্মজীবন কাটানোর স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিদ্যালয়ের সবার প্রতি ভালোবাসায় কোন ক্রুটি ছিলোনা। সব সময় চেষ্টা করেছি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে। আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকেই শিক্ষক, চিকিৎসক ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশার সফলতার কথা শুনে বুক ভরে যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরা রহমান। সিনিয়র শিক্ষক শিরিন আকতার পারভিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হক সোনা, প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি আবদুল ওহাব, তরুলতা (জালমাছমারী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী শিক্ষক ওয়াসিমসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকতা শেষে শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় তিনিও আবেগে সিক্ত হন। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। শেষে রাজকীয়ভাবে ফুলেল পাঁপড়ি ছিটিয়ে সাজানো ঘোড়া গাড়িতে দেয়া হয় বিদায়। এর আগে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।













