ভোলা প্রতিনিধি:
ফারজানা আক্তার—ভোলার এক উদ্যমী তরুণী। ২০২৩ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি জীবনে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পান। প্রশিক্ষণ চলাকালীনই তিনি উপলব্ধি করেন, আত্মনির্ভরতার পথ বেছে নিতে হলে উদ্যোক্তা হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
এই উপলব্ধি থেকেই ২০২৪ সালে স্থানীয় কৃষি অফিসের একটি স্বল্প পরিমাণ প্রণোদনা নিয়ে তিনি শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। শুরুটা ছোট হলেও দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমে খুব দ্রুতই তার উদ্যোগ গতি পেতে শুরু করে।
বর্তমানে ফারজানার খামারে উন্নত জাতের কেঁচো ব্যবহার করে পুরোপুরি জৈব ও নিরাপদ সার উৎপাদন করা হচ্ছে। তার উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট স্থানীয় কৃষকদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব এই জৈব সারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
ফারজানা আক্তার জানান, “উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। কৃষি অফিসের প্রণোদনা না পেলে হয়তো আমি শুরুই করতে পারতাম না। এখন নিয়মিত উৎপাদন করছি, আয়ও বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তরুণদের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিখাতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জৈব সারের ব্যবহার বাড়লে মাটির উর্বরতা বজায় থাকবে এবং উৎপাদন খরচও কমবে।
উদ্যম, অধ্যবসায় ও সাহস—এই তিন শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ফারজানা আক্তার আজ ভোলার তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। ছোট উদ্যোগ কীভাবে বড় সম্ভাবনার পথ দেখায়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি।










